সব খবর
ফুটবল ব্যাখ্যা

ফুটবলাররা খেলার সময় কেন চুইং গাম চিবোয়?

SportCells-এর ব্যাখ্যা · ১৭ জুলাই, ২০২৬ · 3 মিনিট পড়া

ফুটবলাররা খেলার সময় কেন চুইং গাম চিবোয়?

পিচে চুইং গাম চিবানো কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয় — এটা মুখ ভেজা রাখে, ধুলাবালি পরিষ্কার করে, নার্ভেস কমানোর পাশাপাশি ক্যাফেইন-মিশ্রিত ধরনের গুলো প্রতিক্রিয়া সময়কে তীক্ষ্ণ করে তুলতে পারে।

স্টেডিয়ামের গর্জনের মাঝে চুইংগামের মোড়কের একটা দ্রুত ছবি প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়, তবুও এই অভ্যাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকে কিছু ব্যবহারিক ও মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা।

আর্দ্রতা, দৃঢ়তা ও আরাম

খেলোয়াড় যখন ভিজে জায়গায় স্লাইড করে অথবা ডিফেন্ডারের সাথে ধাক্কা খায়, তখন মুখে ময়লার ছোট ছোট কণা দাঁতের ফাঁকে আটকে যেতে পারে। চুইং গাম কাজ করে মুখের স্বয়ংক্রিয় পরিষ্কারক হিসেবে; নিয়মিত চিবানোর ফলে ধুলোবালি বেরিয়ে আসে এবং মুখগহ্বর ভেজা থাকে। লালা শুকনো মুখের ঘর্ষণের হাত থেকে দাঁত ও জিহ্বাকে রক্ষা করে, যা ম্যাচের শেষ পর্যায়ে একটি সূক্ষ্ম সুবিধা হিসেবে কাজ করে।

মানসিক চাপ কমানো ও মনোযোগ বৃদ্ধি

শারীরিক সুবিধার বাইরেও চুইংগাম কাজ করে ছোট্ট একটা স্ট্রেস-মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে। বারবার চিবানোর এই ক্রিয়া মস্তিষ্কের প্যারাসিম্প্যাথেটিক প্রতিক্রিয়া সক্রিয় করে, যা পেনাল্টি শুটআউটের মতো তীব্র মুহূর্তে কর্টিসলের ঝটকা কমিয়ে দেয়। ম্যানেজাররাও দীর্ঘদিন ধরে টাচলাইনে এই অভ্যাসের অনুকরণ করে আসছেন — স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ও কার্লো আনচেলত্তি প্রখ্যাতভাবে চুইংগাম হাতে রাখতেন, যা প্রমাণ করে এই সাধারণ কাজও শান্ত থাকতে সাহায্য করে।

একটা স্থির চিবানো হতে পারে সেই নীরব মেট্রোনোম, যেটা স্ট্রাইকারের হৃদস্পন্দন স্থির রাখে সিদ্ধান্তমূলক শটের আগে।

একজন খেলোয়াড়ের জন্য এর সুফল ব্যক্তিগত ও তাত্ক্ষণিক: শান্ত মনে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়, চাই সেটা পাস দেওয়া হোক কিংবা দৌড়ের সময় বেছে নেওয়া।

ক্যাফেইন-মিশ্রিত গাম: নীরব কর্মদক্ষতার সহায়ক

আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞান চুইং গামকে ক্যাফেইনের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। Biology of Sport জার্নালে প্রকাশিত ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্লাবগুলোর ওপর একটি জরিপে দেখা গেছে, ৯৭% ক্লাব তাদের দলকে ক্যাফেইন সরবরাহ করে, আর ৫৭% ক্লাব তা করে ক্যাফেইন-যুক্ত চুইং গামের মাধ্যমে। চিবিয়ে খাওয়ার এই ফরম্যাট মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লির মাধ্যমে দ্রুত শোষিত হয়, যা পানীয় বা ট্যাবলেটের মতো পাকস্থলীর সমস্যা ছাড়াই দ্রুত শক্তি যোগায়। যখন ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, এই অতিরিক্ত সুবিধা নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে। আগে উল্লেখিত ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইন-যুক্ত চুইং গাম চিবানো খেলোয়াড়রা স্প্রিন্ট গতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছেন যারা চিবাননি তাদের তুলনায়।

নিয়ম, নিরাপত্তা ও ক্লাব সংস্কৃতি

যদিও আইন চুইং গাম খাওয়ার অনুমতি দেয়, ক্লাবগুলো নিজস্ব নিয়ম কড়াকড়ি ভাবে মান্য করে। কিছু দল চিনি যুক্ত গাম নিষিদ্ধ করে দাঁতের সমস্যা এড়াতে, বরং চিনিমুক্ত বা ক্যাফেইন যুক্ত গাম বেছে নেয়। নিরাপত্তা বিধি অনুসারে, কোনো খেলোয়াড়কে চিকিৎসা পরীক্ষার আগে বা রেফারি থামার সংকেত দিলে গাম ফেলে দিতে হয়, যাতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

এ অভ্যাসটি ক্লাব সংস্কৃতির একটি বৃহত্তর ধারণারও প্রতিফলন—খুব ছোট ছোট সুবিধা অর্জনের মানসিকতা। যেসব দল স্পোর্টস সায়েন্সকে আলিঙ্গন করে, তারা প্রায়শই গামকে তাদের পুষ্টি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি বিশেষ রিকভারি ড্রিংকস এবং ঘুম পর্যবেক্ষণও রাখে। এটি একটি কম খরচের, নিম্ন প্রোফাইলের হাতিয়ার, যা খেলোয়াড়ের রুটিনের সঙ্গে সহজেই খাপ খায়।

খেলায় ছোট ছোট রীতিনীতির প্রভাব সম্পর্কে আরও জানতে, পড়ুন আমাদের লেখা কেন কিছু কোচ সব সময় গাম চিবোন? অথবা দলের পোশাকের পিছনের অর্থ জানতে ঘুরে আসুন কেন খেলোয়াড়রা কালো কাঁধবন্ধনী পরেন? থেকে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সাধারণ পরিস্থিতিতে, না। প্রধান ঝুঁকি হল গিলে ফেলা, যা মেডিকেল চেকের সময় গাম বের করে রাখলে এড়ানো যায়। অতিরিক্ত চিবানো জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু এটা খুবই বিরল।

সম্পর্কিত আর্টিকেল