মরক্কো ৪-২ হাইতি – গ্রুপ পর্ব, গ্রুপ সি-এর ফলাফল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী নাটকীয়তা গ্রুপ সি-তে অব্যাহত ছিল, যখন ২৪ জুন ২০২৬-এ মরক্কো আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে হাইতির মুখোমুখি হয়। উভয় দলই টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পয়েন্ট নিশ্চিত করতে ম্যাচে প্রবেশ করে, আর স্টেডিয়ামটি একটি প্রাণবন্ত পটভূমি তৈরি করে একটি ম্যাচের জন্য, যা এদিক-ওদিক দোলাচল করছিল, শেষ পর্যন্ত মরক্কো তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে।

কীভাবে ঘটেছিল

ম্যাচের শুরুটা মোটেও শান্ত ছিল না। মাত্র দশ মিনিটের মাথায় একটি বিরল আত্মঘাতী গোল ম্যাচের প্রাথমিক ভারসাম্যটাই বদলে দেয়: গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু নিজের জালেই বল জড়িয়ে হাইতিকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। এই ধাক্কা মরক্কোকে উদ্দীপ্ত করে তোলে, আর তারা ঘণ্টার কাটার আগেই সাড়া দেয়। ৩৯তম মিনিটে, ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি বাম পায়ের সহজ ফিনিশ দিয়ে স্কোর ১-১ করে সমতা আনেন। কিন্তু হাইতি চার মিনিট পরেই আবার এগিয়ে যায়। উইলসন ইসিদোর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে টপ লেফট কর্নারে বল জড়িয়ে দেন। গোলটি সাজিয়ে দেন জঁ-কেভিন দুভার্ন, আর ৪৩তম মিনিটে ক্যারিবিয়ান দলের স্কোর হয়ে যায় ২-১।

সমতাটা কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি সমতা ফিরিয়ে আনেন। হাকিমির অ্যাসিস্টে সাইবারি বক্সের মাঝখান থেকে ডান পায়ের শটে ৪৫+১ মিনিটে স্কোর ২-২ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কো প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায়। ৭৮তম মিনিটে, চাদি রিয়াদের কর্নার থেকে সুফিয়ান রাহিমি ডান পায়ের শটে টপ রাইট কর্নারে বল জড়িয়ে অ্যাটলাস সিংহদের ৩-২ গোলে এগিয়ে নিয়ে যান। এরপর দ্রুত হাইতির দুই খেলোয়াড়ের কার্ড দেখান: ৭৯তম মিনিটে গোলরক্ষক জনি প্লাসিদ এবং পরের মিনিটেই ফরওয়ার্ড ডাকেন্স নাজঁ হলুদ কার্ড পান।

মরক্কো শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করে। ৮৯তম মিনিটে, রাহিমির অ্যাসিস্টে গেসিম ইয়াসিন বক্সের মাঝখান থেকে বাম পায়ের শটে স্কোর ৪-২ করেন। ফাইনাল হুইসেল বাজার পরও হাইতির জশুয়ে কাসিমির ৯০+৩’ মিনিটে খারাপ ফাউলের জন্য তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

অসাধারণ খেলোয়াড়রা

  • আশরাফ হাকিমি – গোল করে স্কোর সমতা আনেন এবং ইসমাইল সাইবারির প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের গোলের জন্য অ্যাসিস্ট দেন।
  • সুফিয়ান রাহিমি – ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়, তৃতীয় গোল করেন এবং গেসিম ইয়াসিনের শেষ মুহূর্তের শটের জন্য অ্যাসিস্ট দেন।
  • উইলসন ইসিদোর – হাইতির দ্বিতীয় গোল করেন, দুভার্নের পাস থেকে দূর থেকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন।
  • জিন-কেভিন দুভার্ন – হাইতির উদ্বোধনী গোলের জন্য ইসিদোরকে অ্যাসিস্ট করেন এবং ম্যাচের শুরুর দিকে আত্মঘাতী গোলের পরিস্থিতিতে জড়িত ছিলেন।
  • শাদি রিয়াদ – রাহিমির সিদ্ধান্তমূলক গোলের জন্য কর্নার থেকে বল সরবরাহ করেন।

ম্যাচের তথ্যাবলী

  • চূড়ান্ত স্কোর: মরক্কো ৪-২ হাইতি
  • গোলদাতা:
    • ইয়াসিন বুনু (আত্মঘাতী গোল) – ১০'
    • আশরাফ হাকিমি – ৩৯'
    • উইলসন ইসিদোর (অ্যাসিস্ট: জঁ-কেভিন দুভের্ন) – ৪৩'
    • ইসমাইল সাইবারি (অ্যাসিস্ট: আশরাফ হাকিমি) – ৪৫+১'
    • সুফিয়ান রাহিমি (অ্যাসিস্ট: শাদি রিয়াদ) – ৭৮'
    • গেসিম ইয়াসিন (অ্যাসিস্ট: সুফিয়ান রাহিমি) – ৮৯'
  • হলুদ কার্ড:
    • জনি প্লাসিদ (হাইতি) – ৭৯'
    • ডাকেন্স নাজোন (হাইতি) – ৮০'
    • জোসুয়ে কাসিমির (হাইতি) – ৯০+৩' (খারাপ ফাউল)
  • ভেন্যু: মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম, আটলান্টা, জর্জিয়া

এর অর্থ কী

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ সি-তে মরক্কো ও হাইতির উভয়েরই টিকে থাকার আশা বজায় রয়েছে এই ফলাফলের মাধ্যমে, এবং গ্রুপ পর্ব এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে উভয় দলই এই পারফরম্যান্সকে কাজে লাগাতে চাইবে।