বেলজিয়াম ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-তে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে অতিরিক্ত সময়ে জয়লাভ করে এগিয়ে গেছে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ওয়াশিংটনের সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডের আলোয়। উভয় দলই রাউন্ড অফ ৩২-এর নকআউট ম্যাচে প্রবেশ করেছিল একটিমাত্র ভুলের কারণে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন জ্ঞান নিয়ে, এবং সেই সঙ্গে ছিল এমন এক ম্যাচের চাপ, যা শুধুমাত্র 'ডু অর ডাই' ম্যাচই তৈরি করতে পারে।
কীভাবে ঘটেছিল
সেনেগাল ম্যাচের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই এগিয়ে যায়। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে হাবিব ডিয়ারা খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোলের মাঝখানে বল জড়িয়ে দেন, অতিথিরা এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। বেলজিয়াম দল সমতা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে, কিন্তু সেনেগাল ঘণ্টাখানেক পর লিড দ্বিগুণ করে ফেলে। ৫১তম মিনিটে মুসা নিয়াখাতে’র পাস থেকে ইসমাইলা সার বক্সের মাঝখান থেকে ডান পায়ের শটে নিচের ডান কোণে বল পাঠান, স্কোর দাঁড়ায় ২-০।
প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজে বেলজিয়াম দুই গোল পিছিয়ে থাকা অবস্থায়, কিন্তু রেড ডেভিলস নতুন উদ্যম নিয়ে ফিরে আসে। ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখানো হয় ৬৪তম মিনিটে, ব্র্যান্ডন মেশেলে খারাপ ফাউলের জন্য সতর্ক করা হয়। তিন মিনিট পরেই লামিন কামারা একই কারণে সতর্ক হন, শাস্তির হিসাব উভয় দলের মধ্যে সমান থাকে।
বেলজিয়ামের প্রত্যাবর্তন শুরু হয় ৮৬তম মিনিটে। থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে রোমেলু লুকাকু ছয় গজ বক্সের ডানদিকে থেকে ডান পায়ের শটে সেনেগালের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন, স্কোর ২-১ এ নেমে আসে এবং স্বাগতিকদের দিকেই গতি পরিবর্তিত হয়। মাত্র তিন মিনিট পরেই, ৮৯তম মিনিটে, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের পাসে ইউরি টিলেমান্স বক্সের মাঝখান থেকে মাথায় বল পাঠিয়ে নিচের বাম কোণে জড়িয়ে দেন, স্কোর ২-২ এ সমতা আনেন এবং ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের গভীরে গিয়ে গোলশূন্যতা ভাঙে। ১২০তম মিনিটের পাঁচ সেকেন্ড পর ইউরি টিলেমান্স ডান পায়ের শটে উপরের ডান কোণে পেনাল্টি থেকে গোল করেন, বেলজিয়াম এগিয়ে যায় ৩-২ গোলে। রেফারির বাঁশি ১২০ মিনিটের সময়সীমা শেষ হওয়ার সংকেত দিলে, অতিরিক্ত সময়ের গোল বেলজিয়ামের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করে।
উজ্জ্বল অভিনয়শীল খেলোয়াড়রা
- হাবিব ডিয়ারা – সেনেগালের হয়ে ২৪তম মিনিটে কাছ থেকে গোল করে স্কোর খোলেন।
- ইসমাইলা সার – ৫১তম মিনিটে মুসা নিয়াখাতের তীক্ষ্ণ থ্রু বল থেকে সুবিধা নিয়ে সেনেগালের দ্বিতীয় গোলটি করেন।
- মুসা নিয়াখাত – সারের গোলের জন্য সহায়তা প্রদান করেন এবং সেনেগালের সৃজনশীল ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- রোমেলু লুকাকু – ৮৬তম মিনিটে টমাস মুনিয়েরের সময়োপযোগী ক্রস থেকে বেলজিয়ামের প্রথম গোলটি করেন।
- টমাস মুনিয়ের – লুকাকুর সমতাসূচক গোলের জন্য সিদ্ধান্তমূলক ক্রস সরবরাহ করেন।
- ইউরি টিলেমান্স – ম্যাচের সিদ্ধান্তমূলক চরিত্র, ৮৯তম মিনিটে হেডার দিয়ে সমতা আনেন এবং অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে জয়ের নিশ্চয়তা দেন।
- লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ড – তার পাস থেকে টিলেমান্সের সমতাসূচক হেডারের সুযোগ তৈরি হয়, যা বেলজিয়ামের কামব্যাকে ভূমিকা রাখে।
ম্যাচের তথ্যাবলী
- চূড়ান্ত স্কোর: বেলজিয়াম ৩-২ সেনেগাল (অতিরিক্ত সময়ের পর)
- গোলদাতা:
- হাবিব ডিয়ারা (সেনেগাল) – ২৪'
- ইসমাইলা সার (সেনেগাল) – ৫১' (অ্যাসিস্ট: মুসা নিয়াখাতে)
- রোমেলু লুকাকু (বেলজিয়াম) – ৮৬' (অ্যাসিস্ট: থমাস মুনিয়ের)
- ইউরি টিলেমান্স (বেলজিয়াম) – ৮৯' (অ্যাসিস্ট: লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড)
- ইউরি টিলেমান্স (বেলজিয়াম) – ১২০'+৫' (পেনাল্টি, অতিরিক্ত সময়)
- কার্ড:
- ব্র্যান্ডন মেচেলে (বেলজিয়াম) – হলুদ কার্ড, ৬৪'
- লামিন কামারা (সেনেগাল) – হলুদ কার্ড, ৬৭'
- ভেন্যু: লুমেন ফিল্ড, সিয়াটল, ওয়াশিংটন
এর অর্থ কী
৩-২ গোলের জয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত সময়ে খেলা শেষ করে বেলজিয়াম ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পরবর্তী নকআউট পর্বে উঠে গেল, আর সেনেগালের যাত্রা শেষ হলো ৩২ দলের পর্বেই।





